বগুড়া মানেই যেমন মহাস্থানগড়, তেমনি বগুড়া মানেই আকবরিয়া। শতবর্ষের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি রেস্টুরেন্ট নয়, এটি উত্তরবঙ্গের খাদ্য ঐতিহ্যের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ১৯১১ সালে মরহুম আকবর আলী মিঞার হাত ধরে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই হোটেলটি আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
আকবরিয়ার বিশেষত্ব কী?
আকবরিয়া কেন পর্যটক এবং স্থানীয়দের প্রথম পছন্দ? তার কিছু কারণ নিচে দেওয়া হলো:
১. ঐতিহ্যবাহী ঘি-এ ভাজা পরোটা ও হালুয়া: আকবরিয়ার সকালের নাস্তা মানেই গরম গরম ঘি-এ ভাজা পরোটা আর সুস্বাদু বুটের ডালের হালুয়া। এই স্বাদ একবার নিলে ভোলা কঠিন। ২. বগুড়ার আসল দই: বগুড়ার দই বিশ্বখ্যাত, আর আকবরিয়ার স্পেশাল দই ও ক্ষীরসা সারা দেশে সমাদৃত। ৩. বিখ্যাত কাচ্চি ও মেজবানি মাংস: দুপুরের বা রাতের খাবারের জন্য এদের কাচ্চি বিরিয়ানি এবং গরু ও খাসির বিভিন্ন পদ ভোজনরসিকদের প্রধান আকর্ষণ। ৪. আকবরিয়া লাচ্ছা সেমাই: ঈদ মানেই যেন আকবরিয়ার লাচ্ছা সেমাই। তাদের তৈরি সেমাই ও বেকারিপণ্য এখন দেশের বাইরেও রপ্তানি হয়।
আকবরিয়ার সামাজিক অবদান (মধ্যরাতের সেবা)
আকবরিয়া হোটেলের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো তাদের "গরিবের হোটেল" সেবা। মরহুম আকবর আলী মিঞার আমল থেকেই গভীর রাতে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের মাঝে নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করা হয়, যা আজও চলমান।
জরুরি তথ্য ও যোগাযোগ:
প্রধান শাখা: কবি নজরুল ইসলাম সড়ক (থানা রোড), বগুড়া। (শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথা থেকে মাত্র ২ মিনিটের হাঁটা পথ)।
শাখাগুলো: এখন বগুড়া শহরের বনানী মোড়, তিনমাথা এবং রানীরহাটসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের আধুনিক শাখা রয়েছে।
থাকার ব্যবস্থা: আকবরিয়ার আধুনিক আবাসিক হোটেল (Residential Hotel) রয়েছে, যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ আবাসন সুবিধা পাওয়া যায়।